# অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ

*অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে লুটপাট ও অর্থ পাচার হয়েছে।*

১৩ জুন, ২০২৬ · অর্থনীতি

## এক নজরে

- অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে লুটপাট ও অর্থ পাচারের অভিযোগ উত্থাপন করেছেন।
- বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণসহ নিবিড় নজরদারি করা হচ্ছে।
- চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের (২০২৬-২৭) বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরার সময় বলেছেন, বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে লুটপাট ও অর্থ পাচার হয়েছে। তিনি জানান, বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণসহ নিবিড় নজরদারি করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতি এবং সীমাহীন দুর্নীতি, লুটপাট, অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বেড়েছে। বেশ কিছু মেগা প্রকল্পে বিতর্কিত ও একতরফা শর্ত যুক্ত থাকায় বিদ্যুৎ আমদানি ও ক্রয়ে অতিরিক্ত খরচের বোঝা চেপে বসেছে।

তিনি আরও বলেন, ক্যাপাসিটি চার্জ ও বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি পর্যালোচনার মাধ্যমে এ খাতে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

## বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নতুন বরাদ্দ

প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য মোট ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ আছে ১৬ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা। অর্থাৎ নতুন অর্থবছরে বরাদ্দ বাড়ছে ৩৯৩ কোটি টাকা।

## জ্বালানি খাতে ভর্তুকি ও দাম নিয়ন্ত্রণ

মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। সাধারণ জনগণের কষ্টের কথা বিবেচনায় জ্বালানি খাতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম সামান্য সমন্বয় করা হলেও গ্যাসের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

## দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সংস্কার উদ্যোগ

সংকট ও অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বহুমুখী পরিকল্পনা এবং সংস্কার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে আগামী আগস্টে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসতে পারে।

---
Source: https://pulsetoday.com.bd/bn/economy/capacity-charge-looting-in-power-sector-finance-minister
