জাতীয় বাজেটের কেন্দ্রে একটা হিসাব-নিকাশ থাকে—রাষ্ট্র কোথা থেকে আয় করবে আর কোথায় তা ব্যয় করবে। যদিও বাজেটের দর্শন হলো সম্পদের সুষম বণ্টন এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া। কিন্তু বর্তমান ধনতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বাজেট অনেক সময়ই মুষ্টিমেয় পুঁজিপতির স্বার্থরক্ষা এবং প্রান্তিক মানুষকে করের জালে বন্দী করার হাতিয়ারে পরিণত হয়। ঠিক এই জায়গাতেই ইসলামের রাষ্ট্রীয় আর্থিক ব্যবস্থাপনা, যা ‘বায়তুল মাল’ (রাষ্ট্রীয় কোষাগার) নামে পরিচিত, তা এক কালজয়ী বিকল্প হিসেবে হাজির হয়। যার মূলে রয়েছে খোদায়ি আমানতদারিতা ও নিখাদ মানবকল্যাণ।
বায়তুল মালের মূলনীতি
ইসলামি অর্থনীতির এই মূলনীতিই বায়তুল মালের ভিত্তি। সাধারণ মানুষের ওপর পরোক্ষ করের (ভ্যাট) বোঝা চাপানোর বদলে ইসলামে ধনীদের উদ্বৃত্ত সম্পদ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে আদায়কৃত ‘জাকাত’ ও ‘উশর’কে (ফসলের অংশ) আয়ের প্রধান উৎস বানানো হয়েছে। যেন সম্পদ ওপর থেকে নিচের দিকে প্রবাহিত হয়।
বায়তুল মালের আয়ের উৎস
ইমাম আবু ইউসুফ লিখেছেন, বায়তুল মালের প্রধান আয়ের উৎসগুলো ছিল জাকাত, উশর, খুমুস (খনিজ ও যুদ্ধলব্ধ সম্পদের এক-পঞ্চমাংশ), খারাজ (ভূমি রাজস্ব) ও জিজিয়া কর। এর মধ্যে জাকাতের খাতগুলো সম্পূর্ণ নির্দিষ্ট এবং তা অন্য কোনো সাধারণ রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন বা প্রশাসনিক কাজে ব্যয় করার সুযোগ ছিল না।
সমাজকল্যাণে বায়তুল মালের ভূমিকা
বায়তুল মাল ব্যবস্থার সৌন্দর্য হলো, এর একটি অংশ (জাকাত ও সদকা ফান্ড) সব সময় সমাজের দরিদ্রতম মানুষের সামাজিক সুরক্ষায় নিবেদিত থাকত। ফলে রাষ্ট্রের মূল বাজেটে ঘাটতি থাকলেও প্রান্তিক মানুষ কখনো অনাহারে থাকত না।
সমাপ্তি
ইসলামের বায়তুল মাল ব্যবস্থা আমাদের শেখায় কীভাবে জাকাত এবং ওয়াক্ফকে (জনকল্যাণে উৎসর্গীকৃত সম্পদ) প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে জাতীয় বাজেটের পরিপূরক হিসেবে দাঁড় করানো যায়। ইসলামি অর্থনীতিবিদদের মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলো যদি তাদের মোট জিডিপির একটি অংশ জাকাত ও ওয়াক্ফ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরাসরি দারিদ্র্য বিমোচনে ব্যবহার করতে পারে, তবে সরকারের রাজস্ব বাজেটের ওপর থেকে সামাজিক সুরক্ষার বিশাল চাপ কমে যাবে।




















