# ফাহমিদা খাতুনের মতে, বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা আরও বাস্তবসম্মত হওয়া দরকার

*সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) মনে করে, প্রস্তাবিত বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা আরও বাস্তবসম্মত হওয়া উচিত।*

১২ জুন, ২০২৬ · অর্থনীতি

## এক নজরে

- সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন মনে করেন, প্রস্তাবিত বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা আরও বাস্তবসম্মত হওয়া উচিত।
- রাজস্ব আদায় ও রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত না হলে বাজেট শৃঙ্খলা বিনষ্ট হয়।
- মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) মনে করে, প্রস্তাবিত বাজেটে যেসব লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে, তা আরও বাস্তবসম্মত হওয়া প্রয়োজন ছিল। কারণ হিসেবে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত না হলে পূরণ করা যায় না। বাজেটের শৃঙ্খলা বিনষ্ট হয়।

আজ বৃহস্পতিবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে রাজস্ব ও মুদ্রা নীতির মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। ফাহমিদা খাতুন বলেন, তখন সরকারকে অন্য উৎস, বিশেষ করে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হবে। এর প্রভাব পড়বে মূল্যস্ফীতিতে।

রপ্তানির ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে ২ দশমিক ০২ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অথচ বার্ষিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৯ দশমিক ২০ শতাংশ। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে বাকি ২ মাসে কতটা রপ্তানি করতে হবে, তা চিন্তা করাও কঠিন। অর্থাৎ এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত নয়।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। বাজেটে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে। সেই সঙ্গে প্রস্তাবিত বাজেটে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের মূল বিষয়গুলোর প্রতিফলন ঘটেছে।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ নামিয়ে আনাও চ্যালেঞ্জিং হবে। চলতি অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের মতো। এক বছরের মধ্যে তা দেড় শতাংশীয় পয়েন্ট কমিয়ে আনা কঠিন কাজ। সে জন্য কিছু পূর্ব শর্ত পূরণ করতে হবে।

মূল্যস্ফীতি কমাতে হলে মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা, খাদ্য সরবরাহব্যবস্থা উন্নত করা ও জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা উন্নত করতে হবে বলে মত দেন ফাহমিদা খাতুন। সেই সঙ্গে মুদ্রানীতিতে প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে।

রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে জোর দেন ফাহমিদা খাতুন। বিশ্ববাজারে জ্বালানির যে দাম, তা বড় চ্যালেঞ্জ। দাম এই অবস্থায় থাকলে আর শর্ত পূরণ করা গেলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

প্রস্তাবিত বাজেটের বেশ কিছু বিষয়ের প্রশংসা করেন ফাহমিদা খাতুন। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, সৌর প্যানেল ও বৈদ্যুতিক যানবাহনে যে করছাড় দেওয়া হয়েছে, তা ইতিবাচক। সেই সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন, কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগে যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা উল্লেখযোগ্য।

---
Source: https://pulsetoday.com.bd/bn/economy/bajeter-lokkhomatray-bastosommot-howa-uchit-fahmida-khatun
