ফিফা ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) একটি যৌথ সমীক্ষা বলছে, এই বিশ্বকাপ থেকে তিন দেশের সম্মিলিত অর্থনৈতিক উৎপাদন (গ্রস ইকোনমিক আউটপুট) হতে পারে প্রায় ৮ হাজার ১০ কোটি ডলার। যদিও স্বাধীন অর্থনীতিবিদেরা একটু মুচকি হেসে বলছেন, ‘কাগজে-কলমে সংখ্যাটা যত বড় দেখায়, বাস্তবে হয়তো ততটা ফলার সুযোগ নেই।'
ফুটবলকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপ থেকে চলে আসা চিরচেনা ৩২ দলের ফরম্যাট এবার ভেঙে ফেলেছে ফিফা। ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলছে রেকর্ড ৪৮টি দেশ। দল বাড়ায় ম্যাচের সংখ্যা ৬৪ থেকে একলাফে বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১০৪টিতে। টুর্নামেন্টের আয়ুও বেড়ে হচ্ছে প্রায় ছয় সপ্তাহ।
চারটি করে দল নিয়ে গড়া হয়েছে ১২টি গ্রুপ। আর এই নতুন কাঠামোর কারণে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুক্ত হচ্ছে ‘রাউন্ড অব ৩২’ বা শেষ ৩২-এর নকআউট পর্ব। এশিয়া আর আফ্রিকার মতো অঞ্চলের জন্য বাড়তি কোটা রাখায় সুবিধা হয়েছে তথাকথিত ‘ছোট’ দেশগুলোর।
টিকিট বিক্রি আর স্টেডিয়ামে দর্শকদের জন্য হটডগ বিক্রির বাইরেও বিশ্বকাপের একটা বিশাল অর্থনৈতিক বৃত্ত রয়েছে। ফিফা-ডব্লিউটিওর যৌথ সমীক্ষা অনুযায়ী, এই মহাযজ্ঞ বৈশ্বিক জিডিপিতে সরাসরি অবদান রাখবে ৪ হাজার ৯০ কোটি ডলার।
তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ অব দ্য হলি ক্রসের স্পোর্টস ইকোনমিকসের অধ্যাপক ভিক্টর ম্যাথেসন নিউজউইককে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক লাভের অঙ্কটা প্রচারের চেয়ে অনেক কম হতে পারে। কারণ হিসেবে তিনি দেখাচ্ছেন আয়োজকদের আকাশচুম্বী খরচ আর টুর্নামেন্ট শুরুর অল্প সময় আগেও হাজার হাজার অবিক্রীত টিকিট।
টুর্নামেন্টের বেশির ভাগ ম্যাচ (৭৮টি) আয়োজন করে সিংহভাগ লাভ ঘরে তুলবে যুক্তরাষ্ট্র। কানাডা ও মেক্সিকো পাবে ১৩টি করে ম্যাচ। টুর্নামেন্ট চলাকালে প্রায় ৬৫ লাখ পর্যটক আয়োজক শহরগুলোয় যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
২০২৩-২০২৬ চক্রে ফিফার আয় ছোঁবে ১ হাজার ১০০ কোটি ডলার। স্বাভাবিকভাবেই এর বড় অংশ আসছে বিশ্বকাপ থেকে। আর তাই দলগুলোর জন্য পারফরম্যান্সভিত্তিক প্রাইজমানি ৫০ শতাংশের বেশি বাড়িয়ে করা হয়েছে ৬৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দেশের প্রত্যেকে প্রস্তুতি খরচ বাবদ পাবে ১৫ লাখ ডলার। এমনকি কোনো ম্যাচ না জিতে বিদায় নিলেও প্রতিটি দেশের জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার নিশ্চিত! মেটলাইফের মঞ্চে যারা সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে, সেই চ্যাম্পিয়ন দল বাড়ি ফিরবে রেকর্ড ৫ কোটি ডলার নিয়ে।
সম্প্রচার অধিকার ও স্পনসরশিপ থেকে ফিফার প্রত্যাশিত আয় ১ হাজার ৯০ কোটি ডলার। শুধু মিডিয়া রাইটস থেকেই আসবে ৪২০ কোটি ডলার, গ্লোবাল স্পনসর থেকে আরও ২৮০ কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে ইংরেজি ও স্প্যানিশ সম্প্রচার অধিকার পেয়েছে যথাক্রমে ফক্স ও টেলেমুন্ডো।




















