# দিনাজপুরের মর্নই গ্রামে অস্ট্রিচ চাষের অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন

*পার্বতীপুর উপজেলার মর্নই গ্রামে অস্ট্রিচের সাফল্যমূখর বংশবৃদ্ধি এলাকায় নতুন উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে।*

২৬ আগস্ট, ২০২৬ · বাংলাদেশ

পার্বতীপুর উপজেলার মর্নই গ্রামে একটি মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্ক স্থাপিত হয়েছে যেখানে অস্ট্রিচসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী রয়েছে। মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্কটি স্থানীয় বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রাইস উদ্দিন মিয়া বাবুলের একটি হবি প্রকল্প হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে স্থাপিত হয়েছে। মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্কটিতে অস্ট্রিচের সাফল্যমূখর বংশবৃদ্ধি হওয়ায় এটি নতুন উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে।

অস্ট্রিচ চাষের বিশেষজ্ঞ পার্বতীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডঃ পবিত্র কুমার বিএসএস-কে খবর নিশ্চিত করে বলেছেন, তিনি সম্প্রতি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডঃ এমদ আব্দুর রহিমের সাথে মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্কটি পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, ‘পার্কটির সামগ্রিক পরিস্থিতি জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি অফিসগুলোর নজরে আনা হয়েছে।’

মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্কটির মূল আকর্ষণ হলো অস্ট্রিচ। বিশ্বের বৃহত্তম পাখি, যেটি উড়তে পারে না তবে এই দূরবর্তী গ্রামাঞ্চলে সফলভাবে বংশবৃদ্ধি করেছে। পার্কে ইনকিউবেটরের মাধ্যমে সাতটি অস্ট্রিচ ছানা জন্ম নিয়েছে। তাদের মধ্যে একটি মারা গেছে, বাকি ছয়টি স্বাস্থ্যবানভাবে বেড়ে উঠছে। ছানারা এই বছরের ২৪ মে জন্ম নিয়েছে।

পার্কের মালিক ও উদ্যোক্তা বাবুল বলেছেন, ঢাকা থেকে দুইটি অস্ট্রিচ কয়েক মাস আগে পার্কে আনা হয়েছিল। তাদের আগমনের মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই তারা ২৪টি ডিম পাড়ে। হাজী মুহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনবিদ্যা ও প্রাণি প্রজনন বিভাগের শিক্ষক ও গবেষকদের সহায়তায় ডিমগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারের ইনকিউবেটরে রাখা হয়েছিল।

সফল জন্মের মধ্যে পাঁচটি ছানা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা পরীক্ষাগারের ইনকিউবেটরে এবং দুইটি পার্কের নিজস্ব ইনকিউবেটরে জন্ম নিয়েছে। প্রথমে ছানাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল। আগস্ট মাসে দিনাজপুরের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) এমদ রাফিকুল ইসলাম ও জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা পার্ক পরিদর্শন করেছেন। তাঁদের পরিদর্শনের পর অস্ট্রিচ ছানাদের খবর সাধারণ জনসাধারণের কাছে জানানো হয়, যা পার্কে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়িয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, একটি অস্ট্রিচ বছরে ৬০ থেকে ৮০টি ডিম পাড়তে পারে, প্রতিটি ডিমের ওজন প্রায় ১.৫ কিলোগ্রাম। অস্ট্রিচ ঘাস, পাতাযুক্ত সবজি, পালঙ্ক খাবার এবং অন্যান্য সহজলভ্য খাবার খেতে পারে। জেলা পশুচিকিৎসা সার্জন ডঃ আশিকা আকবর ত্রিশা বলেছেন, অস্ট্রিচ চাষ বেকার মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে এবং এটি একটি হবি হিসেবেও কাজ করতে পারে।

তিনি আরও বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে যদি উৎপাদন বৃদ্ধি করা যায় তাহলে বাণিজ্যিক উৎপাদন ও রফতানি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।’ হাজী মুহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনবিদ্যা ও প্রাণি প্রজনন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডঃ এমদ রাশেদুল ইসলাম বলেছেন, বিভাগটি ২০২০ সাল থেকে বাংলাদেশে অস্ট্রিচ চাষের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করছে।

## সূত্র

- BSS

---
Source: https://pulsetoday.com.bd/bn/bangladesh/successful-ostrich-breeding-dinajpur
