# গণ-অভ্যুত্থানের সময় পুলিশ হাসপাতালের রেজিস্টার খাতা ও সিসিটিভি সার্ভার নিয়ে গিয়েছিল

*আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আজ বৃহস্পতিবার সাক্ষী আবু মুসা আহমেদ এ বিষয়টি জানান।*

১৩ জুন, ২০২৬ · বাংলাদেশ

## এক নজরে

- গণ-অভ্যুত্থানের সময় অনাবিল হসপিটাল অ্যান্ড ডায়গনস্টিক সেন্টারের রেজিস্টার খাতা ও সিসিটিভির সার্ভার পুলিশ নিয়ে গিয়েছিল।
- সাক্ষী আবু মুসা আহমেদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এ বিষয়টি জানান।
- মামলায় মোট ১১ জন আসামি, তাঁদের মধ্যে ৯ জন পলাতক।

গণ-অভ্যুত্থানের সময় অনাবিল হসপিটাল অ্যান্ড ডায়গনস্টিক সেন্টারের রেজিস্টার খাতা ও সিসিটিভির সার্ভার পুলিশ নিয়ে গিয়েছিল বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন সাক্ষী আবু মুসা আহমেদ। তিনি সে সময় হাসপাতালটিতে ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আজ বৃহস্পতিবার আবু মুসা এ কথা বলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলায় নিহত কলেজছাত্র ইমাম হাসান তাইম হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৩তম সাক্ষী হিসেবে তিনি এই জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে আবু মুসা বলেন, ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই বিকেলে যাত্রাবাড়ী থানার কিছুসংখ্যক পুলিশ সদস্য হাসপাতালে এসে তাঁদের রেজিস্টার খাতা ও সিসিটিভির সার্ভার নিয়ে যায়। এই রেজিস্টারে কতসংখ্যক আহত রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করেছেন; তার বর্ণনা দেওয়া ছিল। ওই পুলিশ সদস্যরা রেজিস্টার খাতা ও সিসিটিভি সার্ভারসহ তাঁকে যাত্রাবাড়ী থানায় নিয়ে যান। যাত্রাবাড়ী থানায় তাঁকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশ তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিল কতজন আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে পুলিশ বলেছিল আন্দোলনে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দিলে হাসপাতালের ক্ষতি হবে।

এই মামলায় মোট ১১ জন আসামি। তাঁদের মধ্যে ৯ জন পলাতক। তাঁরা হলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার মো. ইকবাল হোসাইন, ডেমরা অঞ্চলের সাবেক উপকমিশনার মো. মাসুদুর রহমান, ওয়ারী অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার এস এম শামীম, সাবেক সহকারী কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস, সাবেক পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জাকির হোসাইন, সাবেক পরিদর্শক (অপারেশন) মো. ওহিদুল হক ও সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) সাজ্জাদ উজ জামান।

কারাগারে থাকা দুই আসামি হলেন যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান ও সাবেক এসআই মো. শাহদাত আলী।

নিহত তাইমের বাবা মো. ময়নাল হোসেন ভূঁইয়া রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের এসআই। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ২০২৪ সালের ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলা পদচারী-সেতুর কাছে গুলি করে হত্যা করা হয় তাইমকে। সে নারায়ণগঞ্জের সরকারি আদমজীনগর এমডব্লিউ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

---
Source: https://pulsetoday.com.bd/bn/bangladesh/police-take-hospital-register-during-uprising
