# দুর্যোগের সতর্কবার্তা মানলে ঝুঁকি কমবে, জীবন রক্ষা সম্ভব

*দুর্যোগের আগাম বার্তা মানলে মানুষের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি কমানো সম্ভব।*

১৩ জুন, ২০২৬ · বাংলাদেশ

## এক নজরে

- দুর্যোগের আগাম বার্তা মানলে মানুষের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
- সরকারি–বেসরকারি সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমকে দুর্যোগ থেকে মানুষকে রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
- দুর্যোগের আগাম বার্তা ও দুর্যোগ–পরবর্তী সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে নারী, মেয়েশিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও প্রান্তিক মানুষের।

দুর্যোগের আগাম বার্তা মানলে মানুষের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি কমানো সম্ভব। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীতে আবহাওয়া অধিদপ্তর ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ আয়োজিত মিডিয়া সংলাপে এ মন্তব্য করেন বক্তারা।

## সংলাপে বক্তাদের মতামত

‘আবহাওয়া, দুর্যোগ ও জনস্বার্থে সাংবাদিকতা’ শীর্ষক সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয় প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে। বক্তারা বলেন, দুর্যোগে সতর্কবার্তা মানলে ঝুঁকি কমবে। প্রান্তিক মানুষকে দুর্যোগ থেকে রক্ষায় আবহাওয়ার আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছাতে সরকারি–বেসরকারি সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তাঁরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিরক্ষাসচিব মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যার ঘনত্ব ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ দেশ। বন্যা, ঝড়সহ দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা সাংবাদিকেরা মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছে দিচ্ছেন। ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, এখন মৃত্যুর সংখ্যা ২০–এর নিচে নেমে এসেছে।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস বলেন, দুর্যোগের প্রভাব সবার ওপর সমানভাবে পড়ে না। দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নারী, মেয়েশিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও প্রান্তিক মানুষেরা। দুর্যোগের সময় আগাম বার্তা ও দুর্যোগ–পরবর্তী সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে এসব মানুষের।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ১৩ নম্বর দুর্যোগপ্রবণ দেশ। দুর্যোগ মোকাবিলায় সম্মিলিত কর্মকাণ্ডের ফলে তিন ধাপ দিয়ে এগিয়েছে দেশটি। এখন বহুমুখী ব্যবহারোপযোগী করে আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পরিচালক (প্রশাসন) ও যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ নাজমুল আবেদীন বলেন, তাঁর মন্ত্রণালয় ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কবার্তা পেয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষকে নিয়ে আসার কাজ করে। এ কাজে ৮০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন।

স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মোমেনুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, আগাম বার্তা ও জলবায়ু পরিবর্তনের তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বজুড়ে অনুকরণীয় মডেল।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ঝড়, বন্যা, বৃষ্টি, বজ্রপাত নিয়ে সতর্কবার্তা ও করণীয় নিয়ে তিনটি পৃথক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতিম বড়ুয়া ও ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির উপপরিচালক শরাফাত হোসেন খান।

আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, এখন আবহাওয়ার ৫ থেকে ১০ দিনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়। তবে ৭২ ঘণ্টার পূর্বাভাস থাকে সবচেয়ে নিশ্চিত ও নির্দ্বিধায় এই পূর্বাভাসের ওপর নির্ভর করা যায়। ঝড়ের সতর্কবার্তার ক্ষেত্রে ৫, ৬ ও ৭ নম্বর বিপৎসংকেত সমান শক্তিমাত্রার ও ৮, ৯ ও ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত সমান শক্তিমাত্রার।

আবুল কালাম মল্লিক আরও বলেন, বজ্রপাতে প্রাণহানি বাড়ছে। এই বছর এ পর্যন্ত বজ্রপাতে ১৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বজ্রপাতের দুই ঘণ্টা আগে আগাম বার্তা দেওয়া যায়। ‘শুনলে বজ্রধ্বনি, ঘরে যাই এখুনি’—এটা মাথায় রেখে বজ্রপাত থেকে বাঁচতে ৩০/৩০ নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

---
Source: https://pulsetoday.com.bd/bn/bangladesh/durjyoge-sotorkobarta-manle-jhunki-kombe
