# বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে বাজেট বক্তৃতায় কোনো রূপরেখা নেই বলছেন পরিবেশবাদীরা

*পরিবেশবাদীরা বলছেন, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে বাজেট বক্তৃতায় কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নেই।*

১৩ জুন, ২০২৬ · বাংলাদেশ

## এক নজরে

- বাজেটে বায়ুদূষণের প্রধান উৎসগুলোর বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপের কথা বলা হয়নি।
- বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ বাড়ানোর উদ্যোগ ভালো, কিন্তু দূষণের উৎস বন্ধ করার কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা নেই।
- পরিবেশবিদদের মতে, বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ ছাড়াও দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে বাজেট বক্তৃতায় কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নেই। তাঁদের মতে, বাজেটে বায়ুদূষণের প্রধান উৎসগুলোর বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপের কথা বলা হয়নি।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বায়ুদূষণ পর্যবেক্ষণে ১৫টি ক্যামস এবং ১৬টি সি-ক্যামস পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যানবাহনের দূষণ নিয়ন্ত্রণে ১০টি আধুনিক ভেহিকেল ইন্সপেকশন সেন্টার স্থাপন এবং বৈদ্যুতিক বাসসেবা চালুর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তবে পরিবেশবিদেরা বলছেন, কেবল দূষণের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করলেই বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। দূষণের উৎসগুলো বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। তাঁদের মতে, বাজেটে বায়ুদূষণের প্রধান উৎসগুলোর বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়নি।

বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়নকেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ‘বাজেটে পরিবেশ দূষণ কমানোর ক্ষেত্রে কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে। বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ বাড়ানোর উদ্যোগও ভালো। কিন্তু সার্বিকভাবে বায়ুদূষণ কমাতে যথাযথ ও সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব নেই। দূষণের উৎস বন্ধ করার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা আমরা দেখিনি।’

আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার আরও বলেন, ‘ঢাকার বায়ুদূষণের বড় উৎস পুরোনো যানবাহন, অবৈধ ও দূষণকারী ইটভাটা, নির্মাণকাজের ধুলা এবং শিল্পকারখানার নির্গমন। এসব উৎস নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, বাজেট বক্তৃতায় তার কোনো দিকনির্দেশনা নেই। যদি দূষণের উৎসই বন্ধ করা না যায়, তাহলে শুধু পর্যবেক্ষণ করে কী হবে?’

পরিবেশবিদদের মতে, বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে দূষণের মাত্রা ও প্রবণতা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু সেই তথ্যের ভিত্তিতে দূষণকারী যানবাহন অপসারণ, ইটভাটার আধুনিকায়ন বা বন্ধকরণ, শিল্পকারখানায় নির্গমন নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি বাধ্যতামূলক করা এবং নির্মাণকাজে ধুলা নিয়ন্ত্রণের মতো কার্যকর উদ্যোগ না নিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।

---
Source: https://pulsetoday.com.bd/bn/bangladesh/bajudushon-nijentron-bajet-boktrita-ruprekha-nei
